হান কাং এর হিউম্যান অ্যাক্টস- বাংলা তরজমা - ১২
- 07 June, 2026
- লেখক: রৌহিন
ষষ্ঠ চড়
“এ লোকটা কী ভাবছে, সেন্সরশিপের চোখকে ফাঁকি দেবে কেমন করে?” বস বিড়বিড় করে। একটু আগে মিঃ সিও র থিয়েটারের একটা বাচ্চা এসে একটা কার্ড দিয়ে গেছে, সেটাই নাড়াচাড়া করছিলেন উনি। এমনিতে শুনলে মনে হবে নিজের সাথেই বকবক করছেন, কিন্তু ইউন-সুক জানে, প্রশ্নটা তাকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছে।
“আবার সবটা নতুন করে লিখেছে নাকি লোকটা? কিন্তু তাহলেও তো আর মোটে দুই সপ্তাহ হাতে – রিহার্সাল করবে কখন?”
পরিকল্পনা অনুযায়ী এ সপ্তাহেই বইটা প্রকাশিত হবার কথা ছিল – তারপর পরের সপ্তাহে কোনো খবরের কাগজের সাহিত্য বিভাগে একটা ভালো সমালোচনা বেরোত। তার ফলে এই মঞ্চাভিনয়টার একটা ভালো প্রচার হয়ে যেত। আর মঞ্চাভিনয়টা দিয়ে বইটার। নাটক চলাকালীন দরজার বাইরে ইয়ুন বইটার কপি বিক্রির ব্যবস্থা রাখবে, এরকমও কথা হয়েছিল। কিন্তু তারপরে সেন্সর অফিস বইটার যা হাল করল, তাতে যে অংশগুলো বাদ যায়নি, সেটা দিয়ে একটা ঠিকঠাক নাটক দাঁড় করানোর প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু তারপরেও কেন কে জানে, মিঃ সিও চুপচাপ ওটা নিয়ে চলে গেলেন আর এখন এই আমন্ত্রণপত্রটা পাঠিয়েছেন – যেন কোথাও কিছু ঘটেই নি।
দড়াম করে অফিসের দরজাটা খুলে গেল। একটা বিশাল বইএর পেটি ঘাড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরে ঢুকল ইয়ুন। ওর চশমার কাচগুলো কুয়াশায় ঝাপসা দেখাচ্ছে।
“এই চশমাটা একটু খুলে নেবে কেউ?”
দৌড়ে গিয়ে ওর চশমাটা খুলে নেয় ইউন-সুক। হাঁপাতে হাঁপাতে টেবিলের পাশের মেঝেতে ধপ করে বইএর পেটিটা ফেলে ইয়ুন। একটা ছুরি দিয়ে পেটিটাকে কেটে দু কপি বই বারকরে একটা বসের হাতে দেয় ইউন-সুক। তারপর নিজের হাতেরটার প্রচ্ছদটার দিকে নজর দেয় সে। ওই পলাতক অনুবাদকের নামটা যেখানে থাকার কথা, সেখানে তার বদলে বসের আমেরিকা প্রবাসী আত্মীয়ের নাম লেখা দেখে সে। এই বইটা সেন্সরের অফিসে দিয়ে আসার পর থেকে গোটা অফিস চাপে ছিল – কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে বইটার মাত্র দুটো প্যারাগ্রাফ ছাড়া প্রায় পুরোটাই ছেপে চলে এসেছে।
বইগুলো টেবিলে ছড়িয়ে রাখার আগে ইয়ুন আর ইউন-সুক মিলে সেটাতে খবরের কাগজ বিছিয়ে নিল। প্রতিটা বইএর সাথে প্রেস বিবৃতির একটা করে কপি সহ আলাদা আলাদা খামে ঢুকিয়ে ফেলা হল। খামগুলোতে প্রকাশকের লোগো ছাপানো। তারপর সেগুলো সারে সারে গুছিয়ে রাখা হল, পরেরদিন সকালে বিভিন্ন খবরের কাগজের অফিসে পাঠানো হবে বলে।
“হুম, ভালোই তো দেখাচ্ছে,” আবারও যেন প্রায় আপনমনেই বিড়বিড় করে বস। তারপর একটু গলাখাকারি দিয়ে এবার আরেকটু স্পষ্টভাবেই বলে, “ভালোয় ভালোয় মিটল বলেই মনে হচ্ছে।“
নিজের রিডিং গ্লাসটা খুলে রেখে উঠে দাঁড়ান বস। কোটটা নিয়ে হাঁচর-পাঁচর করতে করতে চার-পাঁচবারের চেষ্টাতেও ডানহাতটা হাতার মধ্যে ঠিকমত গলাতে পারলেন না। ওঁর কাঁধে আর্থ্রাইটিস আছে, প্রতি বছরই এই শীতের সময়টায় সেটা বেশী ভোগায়। নিজের হাতের কাজ ফেলে রেখে ওঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায় ইউন-সুক।
“থ্যাঙ্ক ইউ মিস কিম”
এত কাছ থেকে ওঁর চোখে ভয়ের স্পষ্ট ছায়া দেখতে পাউ ইউন-সুক, বয়সের তুলনায় বলিরেখাগুলি একটু বেশীই স্পষ্ট যেন। ওঁর মত শান্তশিষ্ট ভীতু স্বভাবের লোক কেন যে সেই সব লেখকদের সাথেই এত দহরম মহরম রাখতে যান, যাঁরা নাকি কর্তৃপক্ষের নজরে থাকেন সব সময়েই, ইউন-সুকের বোধগম্য হয় না। কেনই বা উনি বিশেষ করে সেইসব বইগুলিই ছাপতে নেন, যেগুলো বেশী করে সেন্সরের নজরদারীতে আসে?
বস বেরিয়ে যাবার পরেপরেই ইয়ুনও কেটে পড়ল সেদিনের মত। অগত্যা অফিসে আবার ইউন-সুক একা।
চাইলে ও তাড়াতাড়ি বেরিয়ে বাড়ি ফিরে যেতেই পারত, কিন্তু তার বদলে ও গিয়ে বসল নতুন আনা বইগুলোর কাছে। অনুবাদকের মুখটা মনে করার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখল, ভদ্রলোকের চেহারার কোনো বৈশিষ্ট্যই ঠিকমত মনে করতে পারছে না ও। ডান গালের ক্ষতটার উপর আঙুল দিয়ে চুলকালে বা ঘষলে এখন আর ব্যথা লাগছে না ওর। এমনকি চেপে ধরলেও যে মৃদু অনুভূতিটা আসছে, তাকে ঠিক সেই অর্থে ব্যথা বলা যায় না।
বইটা গল্পের নয় – সত্য ঘটনার আধারে গণ-মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এক রকমের। লেখিকা ইউ কে তে থাকেন, যে সব উদাহরণ উনি ব্যবহার করেছেন বইটিতে তার বেশীরভাগই আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস থেকে – ফরাসী বিপ্লব, স্পেনের গৃহযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। অনুবাদক ইচ্ছে করেই ১৯৬৮র ছাত্র আন্দোলনের অধ্যায়টি বই থেকে বাদ দিয়েছেন, কারণ ওটা শুধু সেন্সরদের দৃষ্টি কাড়া ছাড়া আর কোনো কাজে আসবে না আপাততঃ। যদিও তিনি ঐ অধ্যায়টা তা সত্ত্বেও অনুবাদ করেছেন, ভবিষ্যতে কোনো সম্পূর্ণ এবং পরিমার্জিত সংস্করণে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় যাতে। বইটার ভূমিকায় তিনি লিখছেনঃ
ভীড়ের নৈতিকতা কী দিয়ে পরিচালিত হয় সে সম্বন্ধে আজও নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। সবচেয়ে কৌতুহলকর হল, একই জায়গায় একই ভীড়ের মধ্যে একেকজনের একেকরকম নৈতিক অবস্থান গড়ে ওঠা। কিছু মানুষ আছেন যারা খুন-জখম, ধর্ষণ বা লুটপাটের মত ব্যপার ঘটার সম্ভাবনা দেখলেও তাতে জড়িয়ে যেতে দ্বিধা করেন না, আবার সেখানে দাঁড়িয়েই অন্য কিছু মানুষ সাহস দেখান, নিঃস্বার্থভাবে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, যেগুলো হয়তো তাঁরা একা থাকলে করে উঠতে পারতেন না। লেখকের মতে এই ব্যাপারটা এমন নয় যে কিছু মহান মানুষ এই জনতার মধ্যে থাকেন এবং তাঁরাই এইসব বৈশিষ্ট্য দেখান। বরং তাঁর মতে, এই মহত্ত্ব মানুষের একটা অন্তর্লীন বৈশিষ্ট্য, যা এমনিতে লুকানো থাকলেও ভিড়ের সঙ্গ এবং সহায়তায় কোনো ব্যক্তির মধ্যে প্রস্ফুটিত হয়ে উঠতে পারে। আবার একইভাবে ওই বর্বরতাও মানুষের আরেক বৈশিষ্ট্য এবং সেটাও ওই ভীড়ের মধ্যেই বেশী করে ফুটে উঠতে পারে। সেটার কারণ মানুষের ব্যক্তিগত বর্বরতা নয় – বরং জনতা যা করছে, সেটাতেই অংশ নেবার আকাঙ্খাই সেই প্রবণতাকে বিবর্ধিত করে দানবিক করে তোলে।
এর পরের স্তবকের চারটে লাইন সেন্সরেরা কেটে দিয়েছে। এ কথা মাথায় রাখলে সেই প্রশ্নটাই আবার আমাদের মনে ফিরে আসে – মানবতা তাহলে কী? প্রথমটা করব আর দ্বিতীয়টা করব না, এমনটা নিশ্চিত করা যাবে কিভাবে?, ইউন-সুকের স্পষ্ট মনে আছে এই বিশেষ লাইনটা কিরকম মোটা করে কালি বোলানো হয়েছিল। অনুবাদকের মাংসল কাঁধ, সেই অপরিস্কার নেভি জ্যাকেটটা, হালকা গায়ের রঙ, সব মনে পড়ে ইউন-সুকের; তাঁর লম্বা, কালচে হয়ে যাওয়া নখগুলো দিয়ে সর্বক্ষণ জলের গ্লাসটাকে হাতের মধ্যে ঘোরাচ্ছিলেন উনি। কিন্তু এখনও ওঁর মুখটার কোনো বিশেষত্ব মনে আসছিল না তার কিছুতেই।
বইটা বন্ধ করে চুপচাপ জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকে সে, বাইরে অন্ধকার হবার অপেক্ষায়।
মানবতায় তার বিশ্বাস নেই আর। কারো চোখের দৃষ্টিতে যে প্রেম, চোখের ভাষাইয় ঘর বাঁধার আশ্বাস, এসবের শেষ অবধি কোনো মূল্য থাকে না আর। তার বাকি জীবনটা কাটবে সন্দেহের আর শীতল সব প্রশ্নোত্তরের ঘেরাটোপেই।
সেদিন বিকালে ফোয়ারাটা থেকে জল পড়ছিল না। পিঠে বন্দুক ঝোলানো সেনারা আঞ্চলিক অফিসটার সামনে নতুন লাশগুলো এনে জড়ো করছিল। ওরা লাশগুলোর ঠ্যাং ধরে টানতে টানতে আনছিল, সেগুলোর মাথা রাস্তায় ঠোক্কর খাচ্ছিল, তারপর আগের বডিটার পাশে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছিল। কয়েকজন আবার কাজটা তাআড়তাড়ি সারার আরও ভালো বুদ্ধি বার করেছিল; আঞ্চলিক অফিসের ভিতর থেকে কয়েকটা বড় বড় ত্রিপল এনে তার চারদিকে চারজন করে ধরে একেকবারে ডজনখানেক করে লাশ তারা এনে ফেলছিল। ওখান দিয়ে যাবার সময় সেই দৃশ্য দেখে ইউন-সুকের চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেছিল। ওকে দেখেই বন্দুক উঁচিয়ে ছুটে এসেছিল তিনজন সেনা – “কোথায় যাচ্ছ?” “বাড়ি যাচ্ছি” গলা স্থির রেখেই বলতে পেরেছিল সে, যদিও ওর উপরের ঠোঁটটা তিরতির করে কাঁপছিল, “আমার মাসিকে দেখতে এসেছিলাম এখানে। উনি অসুস্থ।“
ওদের হুকুমে পদক্ষেপ যথাসম্ভব স্বাভাবিক রেখে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছিল ও। ডেইন বাজারে পৌঁছে দেখল বড় রাস্তায় একটা বিশাল ট্যাঙ্ক গুমগুম করতে করতে চলে যাচ্ছে। ওরা সবাইকে দেখাতে চাইছে যে লড়াই শেষ। মনে মনেই ভাবছিল সে, প্রায় আনমনেই। সব প্রতিবাদীরাই মরে গেছে।
ওদের পাড়াটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই, কিন্তু সেদিন সেটা এত খাঁ-খাঁ করছিল, যেন কোনো মহামারী হয়ে গেছে এখানে। তাদের বাড়ির দরজায় বেল বাজাতে ওর বাবা দৌড়ে বেরিয়ে এসে কোনোমতে দরজাটা একটু খুলেই ওকে ভিতরে টেনে নিয়ে আবার লাগিয়ে দিলেন। ওকে নিয়ে গিয়ে সোজা রান্নাঘরের উপরের তাকটায় তুলে দিয়ে সামনে দিয়ে মিটসেফটা টেনে দিলেন, যাতে জায়গাটা চট করে কারুর চোখে না পড়ে। সকাল গড়িয়ে বিকেল হল, বাইরে রাস্তায় ভারী মিলিটারি বুটের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল সর্বত্র। কোথাও দরজা খোলার শব্দ, কাউকে জোর করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ঝনঝন করে কিছু একটা পড়ে গেল কোথাও। না না – আমাদের বাচ্চারা ঐ মিছিলে ছিল না – ওরা কখনো বন্দুক ধরেই দেখেনি। ইউন-সুকদের দরজাতেও কেউ একজন বেল বাজালো। ওর বাবার গলা শুনতে পেলো ইউন-সুক, আমার মেয়ে এখনো হাই স্কুলে পড়ে। ছেলেরা মিডল স্কুল, প্রাইমারি স্কুলে। ওরা মিছিলে গিয়ে কী করবে?
অবশেষে পরেরদিন সন্ধেবেলা সেই রান্নাঘরের ঘুপচি তাক থেকে নেমে আসার পর ওর মায়ের কাছে শুনল লাশগুলোকে নাকি ময়লা ফেলার ট্রাকে তুলে নিয়ে গিয়ে কোথাও গণকবর দেওয়া হয়েছে। শুধু ফোয়ারার ধারে যে লাশগুলো জমা করা হয়েছিল সেগুলোই নয়, এমনকি জিমন্যাশিয়ামের কফিনে যে সব অসনাক্ত লাশগুলো তখনো ছিল, সেগুলোও টেনে বের করে নিয়ে গেছে ওরা।
পুরসভা আর সরকারী অফিসগুলো আবার খুলেছে সব, স্কুল কলেজও। দোকানপাটও খুলে কেনাবেচা শুরু হয়েছে। কিন্তু শহরে এখনো মার্শাল ল চলছে বলে সন্ধে ৭টার পর কারুর বাইরে বেরোনো নিষেধ। শহরের বিভিন্ন মোড়ে সারাদিন সেনাবাহিনী থানা গেড়ে বসে আছে, আই ডি কার্ড ছাড়া কাউকে রাস্তায় দেখলেই তাকে কাছাকাছি থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এতগুলো দিন নষ্ট হবার পর সিলেবাস শেষ করতে প্রায় সব স্কুলই গরমের ছুটি প্রায় আগস্ট অবধি পিছিয়ে দিয়েছে। গরমের ছুটির আগেরদিন অবধি প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে বাস স্টপের পাশের পাবলিক বুথটা থেকে আঞ্চলিক অফিসের জনসংযোগ বিভাগে ফোন করত ইউন-সুক। ফোয়ারাটা এখনো চালু আছে কেন? এটা ঠিক নয়। ঈশ্বরের দোহাই, ওটা বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করুন। ফোনের রিসিভারটা ওর হাতের ঘামে চটচট করত। অফিসারটি ধৈর্য ধরে ওর কথা শুনতেন, ওকে আশ্বাস দিতেন যে বিষয়টা ওরা আলোচনা করে দেখছেন। একদিন একজন মধ্যবয়স্ক মহিলা ওর ফোনটা ধরলেন। ওঁর গলাতেও সমবেদনা ছিল, সেই সঙ্গে একটা হতাশাও প্রচ্ছন্ন ছিল। খুব দুঃখিত, কিন্তু তুমি এভাবে রোজ ফোন কোরো না। তোমার গলা শুনে মনে হয় এখনো হাইস্কুলে পড়ো, তাই না? সবটা ভুলে যাবার চেষ্টা করো মেয়ে, পারলে পড়াশোনা করো মন দিয়ে।
জানলার বাইরেটা অন্ধকার হয়ে আসতে শুরু করেছে এবার।
এবারে তার অফিস থেকে বেরোবার সময়, কিন্তু সে চুপচাপ বসেই থাকে এক জায়গায়। বাইরে সদ্য কলে পেষা ময়দার গুঁড়োর মত বরফের কুঁচি হাওয়ায় উড়ে বেড়াচ্ছে ইতঃস্তত। কিন্তু সেগুলোকে ওর খুব সুন্দর বলে মনে হচ্ছে না আদৌ। আজ ওর ষষ্ঠ চড়টা ভোলবার দিন ছিল, কিন্তু গালের ব্যথাটা ইতিমধ্যেই গায়েব হয়ে গেছে। তেমন কোনো অনুভূতিই নেই আর জায়গাটায়। কাল যখন সকাল হবে, সাত নম্বর চড়টা তাহলে ভোলবার আর কোনো দরকার পড়বে না। সাত নম্বর চড়টা আর কোনোদিনই তার ভোলা হবে না তাহলে।