এভারেস্ট বেস ক্যাম্প : সাগর মাথার পায়ের কাছে - প্রথম পর্ব
- 07 July, 2026
- লেখক: তনুশ্রী গোস্বামী
আমাদের মতো ট্রেকারদের কাছে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প হল স্বর্গের সমান। আর কেন এভারেস্ট!! সেটা তো সবাই জানে। "Because it is there"
2010 এ একবার এটেম্প্ট নিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলাম। সেবার ওয়েদার খারাপ থাকায় কাঠমান্ডু থেকে লুকলার ফ্লাইট ছাড়ছিলোনা। প্রায় চার পাঁচ দিন অপেক্ষার পর সে যাত্রায় অন্নপূর্ণা রিজিয়নে চলে যাই। কিন্তু এভারেস্ট তো মাঝেমাঝেই টানে। কোভিডে বাড়িতে বসে বিস্তর পড়াশোনা করে আমি আর পূরবী ঠিক করলাম এ বছর EBC যেতেই হবে। চল্লিশ হয়ে গেলো আর কবে! অনেক পারিবারিক এবং শারীরিক প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে যে সত্যিই EBC হবে ভাবিনি। তাই এর গল্পটা সবাইকে বলতে বসলাম এতটাই উচ্ছসিত।
এবছর প্রথম থেকেই প্ল্যান ছিল ফ্লাইট না নিয়ে সাল্লেরী থেকে হাঁটা শুরু করবো। এ রাস্তায় দিন তিনেক এক্সট্রা লাগবে কিন্তু পৌঁছোনোটা নিশ্চিন্ত হওয়া গেলো। ফ্লাইট এর অপেক্ষায় থাকলে কী হতো পরে জানা যাবে।
হিসাবমতো 30/09/2022 তে কাঠমান্ডু পৌঁছে পরের দিন প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সেরে তারপরদিন ভোর চারটের সময় শেয়ার জিপে চেপে সাল্লেরী পৌঁছলাম সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায়। বৃষ্টির জন্য সাল্লেরীতে বেশ ঠান্ডা। এখানে একেবারেই ভালো হোটেল নেই। কোনোক্রমে সেই রাতে একটা হোটেল জোগাড় করে নেপালি ডাল ভাত ডিমের ওমলেট ডিনার করে চটপট শুয়ে পড়লাম। পরেরদিন ভোর পাঁচটায় উঠে জলদি রেডি হয়ে আবার শেয়ার জিপ চেপে ঘন্টা পাঁচেকে বুপসা পৌঁছে সেখান থেকে হাঁটা শুরু। জিপ রাস্তা থামদারা পর্যন্ত থাকলেও মাঝে রাস্তার কাজ হচ্ছে তাই আমাদের বুপসা থেকেই হাঁটা শুরু করতে হলো। এখানে আমাদের গাইড কাম পোর্টাররা আমাদের সাথে মিট করলো। এদের আমরা আগেই কাঠমান্ডু থেকে একটা এজেন্সি মারফত পেয়েছিলাম। তাদের দুজনেরই নাম বুদ্ধিরাজ। তাই আমরা বয়সের হিসেবে দুজনকে ওয়ান আর টু নাম দিলাম। সারা পথে শুধু বৃষ্টি আর বৃষ্টি সেই কাঠমান্ডু পৌঁছনো থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এবং আগামী একসপ্তাহ খুব খারাপ ওয়েদার রিপোর্ট দেখাচ্ছে। চিন্তা মাথায় নিয়েই পথে নামা। প্রথমদিন খচ্চর আর ইয়াকের পটিতে ভর্তি রাস্তায় কাদা মেখে বেলা সাড়ে বারোটায় হাঁটা শুরু করে হেড টর্চ জ্বেলে সন্ধ্যে সাতটার সময় পাইয়া পৌঁছলাম। গ্রামের শেষের দিকের একটা টি হাউসে গাইড বুদ্ধিরাজ ওয়ান আগেই পৌঁছে গিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে রেখেছে। পৌঁছেই চটপট ভিজে কাদা মাখা জামাকাপড় চেঞ্জ করে ডাইনিং রুমে গিয়ে খাবার অর্ডার দিয়ে আগুন পোহাতে শুরু করলাম। আজকে এখানেই থামি।
পুনশ্চ: বলতে ভুলে গেছিলাম আমার স্নান পাগল বন্ধু ওই ঠান্ডায় কোথা থেকে বালতি মগ জোগাড় করে ঠান্ডা জলে স্নানও করে নিল।

ছবি পরিচিতি - সাগরমাথা ন্যাশানাল পার্কে ঢোকার প্রবেশদ্বার
“চটপটা হোগা চটপটা”
পাইয়া পৌঁছে ডিনার অর্ডার করে ডাইনিং এ বসে চা নিয়ে টি হাউসের মালিকের সাথে আমি আর পূরবী গল্প জুড়ে দিলাম। তার তিন মেয়ে। প্রথমজন এই রুটেরই একটি জায়গা লোবুচেতে হোটেল চালায়। এক মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। ছোটোজন কাঠমান্ডুতে পড়াশোনা করে। যাইহোক এইসব গল্প করে সুপি নুডলস আর ডাল ভাত ডিনার করে কিছু বিদেশী ছেলেমেয়ের জল ফিল্টার করার ধুম দেখতে দেখতে শুতে চলে গেলাম। ততক্ষনে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে।
পরেরদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলাম তখনও বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। এর মধ্যেই রেডি হতে শুরু করে দিলাম। এবার আমাদের চারজনের গ্রুপের জন্য দুটো রুকস্যাক নেওয়া হয়েছে। বাকি দুটো স্যাকে বাকি জামাকাপড় লেফট লাগেজ করে কাঠমান্ডুর হোটেলেই রেখে আসা হয়েছে। আর সাথে নেওয়া হয়েছে দুটো খাবারের ব্যাগ। তাতে আছে প্রচুর ড্ৰাই ফ্রুটস। স্কুলের লোকজন আমরা EBC যাচ্ছি বলে এতো খুশি আমাদের প্রচুর ড্রাই ফ্রুটস দিয়েছে। আমরা লাস্ট কবার ব্রেকফাস্টের জন্য আমূল পাউডার দুধ আর কর্নফ্লেক্স নিয়ে যাচ্ছি। ওদের ব্রেকফাস্ট সক্কাল সক্কাল খাওয়া খুব চাপের হয়। হোটেল থেকে গরম জল নিয়ে ব্রেকফাস্ট করে স্যাক গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। কালকের রাস্তায় বুপসা থেকে থামদারা পর্যন্ত চড়াই উঠে তারপর সেই কাদা রাস্তায় জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে নামা ছিলো। কোনো গ্রাম রাস্তায় পড়েনি। আজকের রাস্তা সিঁড়ি করা। ওঠা নামা চলছে রাস্তায়। চারিদিক সবুজ। দূরে ফেলে আসা থামদারাকে দেখা যাচ্ছে। আজকের পুরো রাস্তায় আমাদের সঙ্গী খচ্চরের দল। যথারীতি পটি মিশ্রিত কাদার প্রকোপ। তাদের জন্য তাড়াতাড়ি এগোনোও যাচ্ছেনা। আস্তে আস্তে চলছি।
পথে দেখা দুজন আইরিশ ছেলের সাথে। তারা নাকি তিনমাস ধরে মহালংগুর হিমালয় পরিক্রমা করছে। লুকলা এসেছিলো জুতো কিনতে। কিন্তু EBC যাবেনা কারণ ওখানে নাকি সবাই যায়! বোঝো! যে জায়গায় যাওয়ার জন্য আমরা এতদিন ধরে প্ল্যান প্রোগ্রাম করছি তার দোরগোড়ায় এসে ফিরে যাচ্ছে। এরাই পারে।
এইভাবে পথ চলতি মানুষের সাথে কথা বলতে বলতে একসময়ে এসে পড়লো সুরকে গ্রাম। এখানে অতি জঘন্য ফ্রাইড রাইস লাঞ্চ করে আমরা দুধকোশী নদীকে পার করে এগিয়ে চললাম। এবার জঙ্গলের মধ্যে চড়াই রাস্তা। এতো বৃষ্টি হচ্ছে সামনে দশ ফুট দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছেনা। উদ্দেশ্যহীনভাবে হেঁটে চলেছি। একসময়ে সবার পা বিদ্রোহ করলো। সবাই মিলে ঠিক করা হলো প্রথম যে গ্রাম পরবে সেখানেই আজকে হাঁটার বিরতি। এদিকে আমাদের গাইডেরা প্রথমবার এই রাস্তায় এসেছে। তারা এর আগে লুকলা দিয়েই যাতায়াত করেছে। তাই তারাও বিশেষ কিছু বলতে পারছেনা। একটা গ্রামে ঢুকে দেখছি গ্রামের প্রায় সব বাড়িঘর বন্ধ। কী মুশকিল। যাইহোক একটি টি হাউস খোলা দেখে পূরবী মালিকের সাথে কথা বলে সেখানেই থাকা ঠিক করলো। গ্রাম যখন পাওয়া গেছে এখানে থেকে যাওয়াই ভালো কারণ এই গ্রাম ছেড়ে আবার হাঁটা শুরু করলে পরের গ্রাম আবার কখন আসবে তার ঠিক নেই!
আমরা ভিজে জামাকাপড় ছেড়ে ড্রেস চেঞ্জ করে ডাইনিং এ চলে এলাম। পূরবী এসেই জানিয়ে দিলো সে আজকে রাতে ডিমের ঝোল বানাবে আমাদের সাথে চানাচুর মুড়ি ছিলো। ওদের থেকে পেয়াঁজ লঙ্কা চেয়ে নেওয়া হলো মুড়ি মাখা হবে বলে। সঙ্গে ছিল আম তেল । মুড়ি মাখা হবে শুনে ওদের কী আনন্দ। "চটপটা হোগা চটপটা"। গ্রামে যে কটা লোক অবশিষ্ট ছিল সবাই চলে এসেছে চটপটা খেতে। গ্রামের বাকি লোক কোথায় গেলো জিজ্ঞেস করে জানা গেলো তারা দশাইতে (আমাদের দশমীর মতো) কেও গ্রামের বাড়ি গেছে তো কেও শহরে ফিরেছে। সারা সন্ধ্যে এইভাবে রান্না করতে করতে খেতে খেতে গল্প গুজব করে কেটে গেলো। এখানে তেলের এক প্যাকেটের দাম পাঁচশো টাকা। গ্যাস আট হাজার। শুনে তো ভাবছি রাতে ডিমের ঝোল হজম হলে হয়! জানা গেলো বাড়ির মালকিন এই গ্রামের মহিলা সমবায়ের প্রেসিডেন্ট। ওহ গ্রামের নামই তো বলা হয়নি। গ্রামের নাম মুসে।
পুনশ্চ: এখানে আবার আমাদের লিডারের নাকী ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল। তার রক্তচাপ নাকী এত বেড়ে গেছিলো মাথা ফুটো হয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল। পরে অবশ্য জানা গেলো কখন গাছ থেকে মাথায় জোঁক পরে জোঁক বাবাজি এই কান্ড ঘটিয়ে রেখেছেন। রক্ত খেয়ে তিনি কখন দেহ রেখেছেন। এদিকে লিডারের তো অবস্থা খারাপ। যাইহোক লিডার আবার রক্ত ধোয়ার নামে ওই বৃষ্টির মধ্যে ঠান্ডা জলে শ্যাম্পূ করতে চলে গেলো। এই স্নান পাগল লিডার নিয়ে কী হবে আমাদের বাকি রাস্তায়!!

ছবি পরিচিতি - পথের মাঝে এরকম অনেক ঝুলন্ত ব্রিজ পেরোন ট্রেকাররা
কম্বলের ভাঁজে কে নড়ে!!
আজকের রাত মুসে গ্রামে কাটাচ্ছি আগেই বলেছি। ডিমের ঝোল মারাত্মক ঝাল হয়েছিল। ওদের ওখানের ওই ছোট ছোট গোল গোল লঙ্কা দুটো পড়াতেই এই অবস্থা। যাকগে তাতেও এক ফোঁটা ঝোল কারও পাতে অবশিষ্ট রইলোনা । বাড়ির মালকিন নিজেদের জন্য মাশরুমের তরকারি বানালো। ওরা জানালো আমাদের এত তেল ঝালের রান্না ওরা খেতে পারবেনা। খাওয়া দাওয়া করে মা বাবা শুতে চলে গেলো এদিকে ওনাদের দুটি বাচ্চা তখনও জেগে। বড় মেয়েটি ক্লাস নাইনে পড়ে চৌরিখরকা গ্রামে ওর স্কুল। আর ছোট ছেলেটি খুবই ছোট। বছর দুয়েক বয়স হবে। সে সারা সন্ধ্যে ঘুমিয়ে এখন রাতের বেলা জেগে উঠে খেলা শুরু করেছে। একটা ছোট্ট দড়ি কোথা থেকে জোগাড় করে স্নেক বানিয়েছে আর আমাদের ঘরে 'নেকেস' বলে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষন খেলে তাকে জোর করে শুতে পাঠিয়ে আমরাও শুয়ে পড়লাম।
পরেরদিন সকাল ছটায় ঘুম থেকে উঠে দেখলাম তখনও বৃষ্টি থামেনি। সারারাত তুমুল বৃষ্টি পড়েছে। আমরা দুধ কর্নফ্লেক্স ব্রেকফাস্ট করবো শুনে ভদ্রলোক গ্রাম থেকে দুধ আনিয়েছেন। আমরা রেডি হয়ে বেরোচ্ছি। বিল পেমেন্ট করতে গিয়ে দেখা গেলো কালকের ডিমের ঝোল ভাতের দাম ধরেছেন আটশো টাকা। মানে চার জনের বত্রিশো নেপালি টাকা। আমাদের একশো টাকা মানে নেপালে একশো ষাট টাকা। এটা ফিক্সড রেট। যাইহোক 'পঞ্জরের তিনখানি অস্থির মত' তিন হাজার টাকার তিনটি নেপালি নোট দিয়ে আজকের যাত্রা শুরু হলো। সকাল সাড়ে আটটা মতো বাজে ।
রাস্তায় বেরিয়েই প্রথমেই একটা চোর্তেন পড়লো। আমরা একটু ফটো তুলে নিলাম। কারণ গতকাল বৃষ্টির জন্য ভালো করে ফটো তোলা হয়নি ইতিমধ্যে বৃষ্টি ভালোই ধরে এসেছে। হঠাৎ করেই যেন মেঘের একটা পর্দা চোখের সামনে থেকে সরে গেছে। দশ মিনিট এগোতেই সামনে গ্রাম পড়লো ছেপলুঙ। এখান থেকে ডানদিকে আধঘন্টা চড়াই উঠলেই লুকলা পৌঁছনো যায়। আমাদের রাস্তা বামদিকে। যত এগোতে থাকি একেরপর এক গ্রাম আসতে থাকে আধঘন্টা অন্তর অন্তর। আসলে আমরা এবার এভারেস্ট বেস ক্যাম্প এর কনভেনশনাল রুটে ঢুকে গেছি। রাস্তা অধিকাংশ সময়ে পাথর বাঁধানো। চড়াই উৎরাই বেশি নেই। বৃষ্টিও আজকে থেমে গেছে প্রায়। মনের আনন্দে আজকে পথ চলছি। একে একে চৌরিখড়কা তারোকোশি ঘাট পেরিয়ে পৌঁছলাম ফাকডিং। যারা ফ্লাইটে আসেন তারা লুকলা থেকে ফাকডিং পৌঁছে নাইট স্টে করেন। এখানে ভালো ট্রেকিং গিয়ারের দোকানপাট আছে। পূরবী এখন থেকে ন্যাপস্যাকের কভার আর নন্দিনীদি ট্রেকিং পোল কিনলো। দাম মোটামুটি সস্তাই পড়লো। ফাকডিং পৌঁছে আবার দুধকোশী নদী পার করতে হলো। এতক্ষন নদী বামদিকে ছিল এবারে ডানদিকে চলে গেল। এরপর এসে পড়লাম টোকটোক গ্রামে। নামটি ভারী মিষ্টি। এখানে আমাদের ট্রেক কার্ড বানাতে হলো মাথাপিছু দুই হাজার নেপালি টাকা দিয়ে। ট্রেক কার্ড বানিয়ে আমরা এগিয়ে চললাম। এখানেও একটা ছোট্ট মার্কেট আছে রাস্তার ওপর। ট্রেকিঙের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নেওয়া যায়। খুব সুন্দর একটা ঝর্ণার ধারে আজকের লাঞ্চ করলাম। বুদ্ধিরাজ ওয়ান আগে গিয়ে খাবার অর্ডার দিয়ে রেখেছিলো। কারণ আমাদের ট্রেক কার্ড বানাতে সময় লাগছিলো। সার্ভার ডাউন ছিল তাই। লাঞ্চে ছিল নেপালি ডাল ভাত সবজি। খুব টেস্টি খাবার। আমরা সব জায়গায় তিনটে থালি নিয়ে চারজনে ভাগ করে খেয়েছি। কারণ আমরা খুব কম ভাত খাই। আর মিল সিস্টেম তাই ভাত চাইলেও পাওয়া যায়।
লাঞ্চের পর আবার হাঁটা শুরু। এবার আবার হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেই এগিয়ে চলেছি। আগেই বলেছি আজকের রাস্তা ভালো। ঘোড়ার পটি কাদা এসবের উপদ্রব নেই। পেরিয়ে গেলাম বেঙকার চুমোয়া গ্রাম। আজকের রাস্তায় সব গ্রামই পর পর আধঘন্টার মধ্যেই চলে আসছ। তাই যেখানে মন চাইবে থেকে যাওয়া যায়। আমরা এসে পৌঁছলাম মানজো গ্রামে۔এখন বিকেল সাড়ে তিনটে মতো বাজে । আজকে এখানেই থাকবো। এখান থেকে 'সাগরমাথা ন্যাশনাল পার্কে' ঢোকার পারমিশন নিতে হবে আগামীকাল।
খুব ভালো একটা টি হাউসে নিয়ে এসেছে আমাদের গাইড। ঢুকেই খুব বড় ডাইনিং রুম। ভিতর দিকে ঘরগুলোও ভালো। অ্যাটাচ বাথরুম। দারুন ব্যবস্থা। আর লিডারকে পায় কে!ঢুকেই গরম জলের অর্ডার দিয়ে স্নান করতে ঢুকে গেলো। এদিকে দুকাপ গরম জল দিয়েছে 200NC।
জল দিতে এত দেরি করছে দেখে পূরবী ঠান্ডা জলেই স্নান করে নিয়েছে। বাকি দুজনও আগেই গরম জল পেয়ে স্নান করে নিয়েছিল। পড়ে রইলাম আমি। আমার মোটেও ঐ ঠান্ডায় স্নান করার ইচ্ছা নেই । এদিকে দুশ টাকা নষ্ট হবে এই শোকে আমাকে সবাই জোর করে স্নানে পাঠালো। দেখি ওই দুকাপ গরম জল এক বালতি ঠান্ডা জলে মিশিয়ে দিয়েছে কর্মচারী ছেলেটি। অগত্যা আর কী করবো। ঐ ঠান্ডা জলেই স্নান করে ডাইনিং এ গিয়ে বসলাম। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর চা অর্ডার দিয়ে নিজেদের মধ্যে গল্প করে সন্ধ্যাটা বেশ ভালোই কাটলো। রাতে অতি জঘন্য হাক্কা নুডলস খেয়ে শুতে গেলাম। শুতে গিয়েই হলো যত বিপত্তি। কম্বলের ভাঁজ খুলতেই দেখি কী যেন নড়ে চড়ে উঠে পালিয়ে গেলো।

ছবি পরিচিতি - রাতের নামচে বাজার
নিরুদ্দেশ সম্পর্কে ঘোষণা
কম্বলের ভাঁজে একটা বিছে বেশ শীতঘুম দিচ্ছিলো। টানাটানিতে বেচারা ঘুম থেকে উঠেই লাফিয়ে কোথায় পালিয়ে গেলো খুঁজে পাওয়া গেলোনা। এখানেও উদ্ধারকর্তা হলেন 'লিডার সাব'। কোথা থেকে বিছেটিকে খুঁজে বের করে চটি দিয়ে নিরীহ প্রাণীটিকে হত্যা করে ঘুমোতে চলে গেলো।
মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে বললো ওর নাকি কান কটকট করছে এবং নিশ্চিতরূপে ঘোষণা করলো এটি সেই মুসে গ্রামের জোঁকের কান্ড। জোঁকটি মাথা ফুটো করে কানে গিয়ে পৌঁছেছে এবং তার জন্যই এত যন্ত্রনা । আমিও কিছু না বলে চুপ করে শুয়ে পড়লাম। লিডার বলে কথা। নিশ্চই তাই হবে।
পরদিন ঘুমের ঘোর কেটে যেতে কান কটকট নিয়ে আর কোনো কথা নেই। আমিও চুপ। আজকে আমরা তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠেছি। নিজেদের আনা ব্রেকফাস্ট করে চটজলদি বেরিয়ে পড়লাম। আজ সবাই ভীষণ উত্তেজিত। আজকে 'সাগরমাথা ন্যাশনাল পার্কে' প্রবেশ করবো। এবং বহুশ্রুত এবং বহু আকাঙ্খিত নামচেবাজারে পৌঁছবো। ন্যাশনাল পার্কে মাথা পিছু দেড় হাজার নেপালি টাকা দিয়ে পারমিশন পাওয়া গেলো। এখানে সোলোখুম্বু রিজিওনের একটা মডেল বানানো আছে যেখানে সমস্ত পিকের অবস্থান দেখানো রয়েছে। সেখানে আর গেটের সামনে ফটো তুলে এগোতে শুরু করলাম। হাঁটার শুরুতেই অনেকটা সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে জোরসালে গ্রামে পৌঁছলাম। তারপর ঝোলা ব্রিজে নদী পার হয়ে নদীকে আবার বামদিকে রেখে পথ চলা শুরু। এখানে নদীর নাম ইমজে খোলা। নেপালে নদীকে খোলা/চু ইত্যাদি বলে। নদী পেরোতেই প্রথম এক বাঙালি গ্রুপের সাথে দেখা। ওনারা এভারেস্ট বেস ক্যাম্প থেকে ফিরছেন। ভালো ওয়েদার পাননি তাই আফসোস করছেন। এদিকে আমরাও ঠিক করে নিয়েছিলাম এতো পরিশ্রম করে এতো টাকা খরচা করে যখন এসেছি ভালো করে সব কিছু দেখেই ফিরবো। ওয়েদার রিপোর্টে দেখিয়েছিলো ১২ তারিখ থেকে ওয়েদার ক্লিয়ার হবে তাই আমরাও লো অল্টিটুডে সময় বেশি নিচ্ছিলাম। যাতে ১২ তারিখ নাগাদ ওপরের দিকে থাকি।
যাইহোক এগোতে থাকলাম ইমজে খোলাকে বামপাশে রেখে। এরপরেই শুরু হবে নামচের বিখ্যাত চড়াই। এর কথা বহু অভিজ্ঞ ব্যক্তির লেখায় পড়েছি। দূর থেকে দেখতে পাচ্ছি সিঁড়ি উঠে গেছে ওপর দিকে। দুটি ঝুলন্ত সেতু দেখা যাচ্ছে। নিচেরটা পরিত্যক্ত। আর উপরেরটা বিখ্যাত 'হিলারি ব্রিজ'। আমরা খুব উত্তেজিত। এদিকে আকাশ আবার মেঘলা করে এসেছে। সিঁড়ি ভেঙে হিলারি ব্রিজে পৌঁছে প্রচুর ফটো তুললাম। এর আগে সুরকে গ্রামে দুটি নেপালি ছেলের সাথে আলাপ হয়েছিল। ওরা বীরগঞ্জ থেকে এসেছে। দেখি ওরা নামচেবাজার থেকে ফিরছে। সরকারি চাকরি করে। হাতে আর সময় নেই তাই নেমে যাচ্ছে। ওদের সাথেও কিছু ফটো তোলা হলো। নদী পার করার সময় প্রচন্ড ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপ্টা মুখে লাগছিলো। ব্রিজ পার করে শুরু হলো টানা চড়াই রাস্তা। সিঁড়ি রাস্তায় আমরা টুকটুক করে এগিয়ে চলেছি। একটু করে এগোচ্ছি। তারপর হাঁপিয়ে গেলে একটু দাঁড়িয়ে আবার এগোচ্ছি।
সিঁড়ির রাস্তার শেষে পৌঁছে দেখি একটা টপ মতো জায়গায় সবাই দাঁড়িয়ে ফোন করছে। এখানে মনেহয় নেটওয়ার্ক ভালো পাওয়া যাচ্ছিলো। সবাই বাড়িতে ফোন করে নিজেদের খবর জানিয়ে দিচ্ছে। আবার চলতে শুরু করলাম । এবার পুরো রাস্তা রডোডেনড্রন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে এবং দমফাটা চড়াই। অবশেষে ঘন্টা তিনেক চড়াই ওঠার পর সেই রাস্তাও শেষ হলো। আমরা পৌঁছলাম নামচেবাজার ঢোকার মুখে আর্মি চেক পোস্টে। এখানে আমাদের ট্রেক কার্ড এবং পারমিট দেখাতে হলো। ইতিমধ্যে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। আমরা চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করছি। ভিয়েতনামের একটি গ্রুপ এসেছে। তারা আগামীকাল হেলিকপ্টারে বেস ক্যাম্প যাবেন। মাথা পিছু তিন হাজার ডলার।
বৃষ্টি হালকা ধরতে আমরা এগোতে শুরু করলাম۔মিনিট কুড়ির মধ্যে নামচে পৌঁছে গেলাম। নামচেবাজার হলো 'শেরপা'দের বাসস্থান। সোলো খুম্বু এলাকার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। গ্রামে ঢোকার মুখে একটা বড় তোরণ করা আছে। তার ভিতরে অপূর্ব কারুকার্য। সিঁড়ির ডানপাশ ধরে বড় বড় প্রেয়ার হুইল রয়েছে যেগুলি জলের প্রবাহে অনবরত ঘুরছে। বামপাশে টেরেসে কফির দোকান। কী সুন্দর সাজানো গোছানো জায়গা। মনের মধ্যে কী যে এক উত্তেজনা চলছে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা। আমার বহুদিনের স্বপ্নের একটা জায়গা এই নামচেবাজার। সেখানে আজ আমি উপস্থিত হতে পেরেছি।
গ্রামের শুরুতে লোকাল লোকেদের বসতি পেড়িয়ে আমরা বাজার এলাকায় পৌঁছলাম। এখানে বিভিন্ন ধরণের ট্রেকিং সামগ্রী শীতের পোশাক এবং মেমেন্টো টাইপের জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। গাইডদের হোটেল খুঁজতে বলে এইসব জিনিস ঘুরে ঘুরে দেখছি। কিছুক্ষন পর দেখি গাইডরা বেপাত্তা। কোনদিকে গেলো বুঝতে পারছিনা। ওদের আশা ছেড়ে আমরা নিজেরাই হোটেল দেখতে শুরু করেছি। আমি আর নন্দিনীদি একটা হোটেলে ঢুকে দরদাম করে বেরিয়ে এসে দেখি লিডার একজন নেপালি ভদ্রলোকের সাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছে। আহা মানুষটা সারাবছর আমাদের লিডারগিরি করে একটু গল্প করছে করুক। আমরা ওকে না ডেকে পাশের গলিতে আর একটা হোটেল দেখতে ঢুকেছি। দেখি আমাদের গাইডরা ওখানেই একটা হোটেল আগেই বুক করে ফেলেছে। আমরাতো নিশ্চিন্ত হয়ে ঘরে ঢুকে ড্রেস চেঞ্জ করতে লেগে গেছি। আর বুদ্ধিরাজ টু গেছে লিডারকে ডেকে আনতে। বেশ কিছুক্ষন টু আসছেনা দেখে আমি ওয়ানকে পাঠালাম কী ব্যাপার দেখতে। আরও কিছুক্ষন পর দুজনেই ফিরে এসে উদ্বিগ্ন মুখে জানালো লিডারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

۔"হারিয়ে পাওয়া"
বুদ্ধিরাজ ওয়ান এবং টু পর্যায়ক্রমে বার চারেক খুঁজে এসে শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিলো। তাহলে কী মানুষটা সত্যিই হারিয়ে গেলো। ততক্ষনে অবশ্য আমরা দুপুরের খাবার অর্ডার দিয়ে দিয়েছি চিকেন ভাত। লিডারকে খুঁজতে গেলেও তো খেয়েদেয়ে নিজেদের শক্তি জোগাতে হব। এই হোটেলটির মালকিন খুব ভক্তিমতী মহিলা। সারাক্ষন ঈশ্বরের নাম জপতে থাকেন। উনিও খুব চিন্তিত এই লিডারহীন গ্রুপকে নিয়ে।
আমরা একশো টাকা দিয়ে একটা নেপালি সিম নিয়েছিলাম। কিন্তু কাঠমান্ডুর পর সেটা আর কোথাও এখনো পর্যন্ত কাজ করেনি। তাই আমরা কোনো ফোন করেও পূরবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারছিনা। দুই বুদ্ধিরাজই হতোদ্যম হয়ে বসে আছে। আমার তো কেঁদে ফেলার মতো অবস্থা। বাইরে তখন অঝোরধারে বৃষ্টি পড়ছে । মানুষটা গেলো কোথায়? হঠাৎ ওয়ানের ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলো এবং সেটিকে অনুসরণ করে গিয়ে দেখে লিডার এতক্ষণ ধরে আমাদের হোটেলের পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিল আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তনু তনু আর বুদ্ধিরাজ বলে নাকি ক্রমাগত ডেকে গেছে আমরা কেও শুনতে পাইনি ভিজেপুড়ে মানুষটা প্রায় পৌনে একঘন্টা ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে তারপর এক পথ চলতি মানুষের থেকে ফোন নিয়ে আমাদের ফোন করেছে । 'The king of intelligence' দের এমন বুদ্ধি বাকী সব জায়গায় খুঁজেছে হোটেলের পিছনদিকে ছাড়া।
লিডারের প্রত্যাগমনে আমরা অত্যন্ত খুশি হয়ে প্রচুর ভাত খেলাম অনেকদিন পর। আর প্রথমবার ট্রেকরুটে চিকেনও খেলাম। অসাধারণ রাঁধেন ভদ্রমহিলা। বৃষ্টি একটু ধরেছে দেখে খাওয়া দাওয়া করে আমি আর নন্দিনীদি মিউজিয়াম ঘুরতে গেলাম গাইডদের সাথে।
নামচেবাজার জায়গাটা পাহাড়ের গায়ে একটা অর্ধচন্দ্রাকৃতি আকারে তৈরি হয়েছে। আমাদের হোটেলের পাশ দিয়েই সিঁড়ি উঠে গেছে মনাস্ট্রিতে পৌঁছনোর। আমরা যখন বেড়িয়েছি মনাস্ট্রি বন্ধ হয়ে গেছে। তার পাশ দিয়ে আরও সিঁড়ি উঠে একটা রাস্তা বামহাতে অনেকটা ওপরে চলে গেছে শেরপা গ্রাম কুনজুম আর খুণ্ডের দিকে। আর ডানহাতের রাস্তাটা নামচেকে ওপর দিক দিয়ে পুরো বেষ্টন করে আরও এগিয়ে গেছে বেস ক্যাম্পের পথে। আমরা ডানদিক দিয়ে অনেকটা গিয়ে বেশ ক্যাম্পের রাস্তা ছেড়ে আবারো ডানদিকে গ্রামের মধ্যে ঢুকে নামচের একদম টপে চলে এলাম। এখানেই দুটো মিউজিয়াম আছে। পাশেই গ্রামের ছেলেরা ভলিবল খেলছে। সরকারি মিউজিয়ামটির অবস্থান খুব সুন্দর জায়গায়। সামনে তেনজিং নোরগের বিশাল মূর্তি। পিছনেই সাদা পাহাড় মেঘে ঢাকা। রেনোভেশনের কাজের জন্য মিউজিয়াম বন্ধ। তাই নেমে এসে পাশেই প্রাইভেট মিউজিয়ামটিতে ঢুকলাম আড়াইশো নেপালি টাকা দিয়ে টিকিট কেটে। এটা শেরপাদের বাড়ি, জীবনযাত্রার খুঁটিনাটি জিনিস অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি দিয়ে সাজানো। পাশেই আর একটি বাড়ি বিভিন্ন দেশের এভারেস্ট অভিযাত্রী এবং শেরপাদের ফটো দিয়ে সাজানো। এই মিউজিয়ামটি বানিয়েছেন সোনাম শেরপা। ওনার বাবা বিখ্যাত পর্বতারোহীদের এভারেস্ট অভিযানে সাহায্য করেছেন।
পাশেই একটা বড় বিল্ডিঙে নতুন আর একটি মিউজিয়াম উদ্বোধন হয়নি তখনও কিন্তু আমাদের উৎসাহ দেখে উনি খুলে দিলেন। এবং নিজে ঘুরে দেখালেন। উনি কানে শুনতে পাননা তাই কোনো প্রশ্ন করলে ওনার হাতের ওপর আঙ্গুল দিয়ে লিখে দেখাতে বলছিলেন। অসাধারণ ব্যক্তিত্ব । উনি কখনো এভারেস্টে যাননি। ওনার শখ ফটোগ্রাফি। সারা রাস্তাতেই বিভিন্ন হোটেলে ওনার ফটো দিয়ে অন্দরসজ্জা দেখেছি। এই মিউজিয়ামটিও শেরপাদের কীর্তিকলাপ নিয়েই বানানো। উনি বলছিলেন যে সারা পৃথিবীতে এত মানুষ পাহাড়ের মাথায় ওঠেন। নাম তো তাদের হয়। কিন্তু শেরপাদের কথা তো কেও বলেননা। তাই তাদের কথা ভেবেই তিনি চার বছর ধরে সমস্ত জিনিস সংগ্রহ করেছেন। খুবই ভালো একটি অভিজ্ঞতা নিয়ে হোটেলে ফিরলাম তখন সন্ধ্যে হয়ে গেছে।
সন্ধ্যেবেলা হঠাৎ করেই পূরবীর ফোন কাজ করা শুরু করলো। গাইডরা বলছিলো এতদিন ওয়েদার খারাপ থাকার জন্য নাকি নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি। যে যার বাড়িতে তৎক্ষণাৎ ফোন করে কুশল সংবাদ জানিয়ে দিলাম। সন্ধ্যেবেলা পুরোটাই রুম হিটারের পাশে বসে গল্প করে কেটে গেলো। রাতে মোমো চাউমিন ফ্রেঞ্চফ্রাই দিয়ে ডিনার করে শুতে চলে গেলাম। আজকে মনে বেশ আনন্দ। কারণ কাল আমরা নামচেতেই থাকবো। যেহেতু আমরা কাঠমান্ডু থেকে প্রায় তিনহাজার মিটার ওপরে উঠে এসেছি এবং আরও প্রায় দুহাজার মিটার উঠবো তাই এখানে আমাদের উচ্চতার সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য রেস্ট ডে দিতে হবে। সবাই তাই করে। সকালে উঠেই ব্যাগ গোছানোর জঞ্ঝাট নেই এই সুখেই চটজলদি ঘুম এসে গেল।