জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা ও জাপানযাত্রী শিক্ষিকার ডায়েরি

প্রথম পর্ব:

জাপান! মাউন্ট ফুজির দেশ, চেরি ব্লসমের দেশ, হিরোশিমা-নাগাসাকির স্মৃতি, আর সামুরাইদের বীরত্ব। ছোটবেলা থেকেই এই দেশটা অন্য সবার মত আমারও খুব পছন্দের। আর শিক্ষক হওয়ার পর তো ওদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমার আগ্রহের শেষ নেই। মা যখনই দেখে আমি দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছি, তখনই তার একটাই আবদার, "বাবু, এত ঘুরিস, একবার জাপান যেতে পারিসনা?" নারায়ণ সান্যালের "আমি রাসবিহারীকে দেখেছি" বইটা পড়েই  মনে হয় মায়ের মনে জাপানের প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। রাসবিহারী বসুর কর্মক্ষেত্র জাপানের আনাচে-কানাচে ছড়ানো, আর মা সেই গল্পগুলো পড়ে মুগ্ধ!

যাইহোক, হঠাৎ করেই CEE (Centre for Environment Education, Lucknow) -এর দৌলতে জাপান যাওয়ার সুযোগ এসে গেল। আমি আমার সহকর্মীদের সাথে আমার বাচ্চাদের নিয়ে CEE-এর কিছু পরিবেশ-বান্ধব প্রকল্পে কাজ করছি বিগত কয়েক বছর ধরে। সেই সুবাদেই ওরা উৎসাহী শিক্ষকদের ফর্ম পাঠায়। সেখান থেকে ইন্টারভিউ, গ্রুপ ডিসকাশন, আর তারপর ফাইনাল সিলেকশন! তারপর স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের পারমিশন নেওয়া। CEE-এর কল্যাণে ভিসা-টিসার ঝামেলাও পোহাতে হয়নি।

আমরা ১২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দিল্লি থেকে টোকিওর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম গতবছর ৩০ শে সেপ্টেম্বর। ১ লা অক্টোবর ভোরবেলা টোকিওর হানেদা এয়ারপোর্টে পৌঁছলাম। এয়ারপোর্ট থেকেই ACCU (Asia Pacific Cultural Centre for UNESCO, এদের সাথে CEE এবং মিনিস্ট্রি অফ এডুকেশনের কোলাবোরেশনে ২০১৬ সাল থেকে এই টিচার্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামটা হচ্ছে)-এর দুই কর্মকর্তা আমাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী হলেন। ৬ দিনের প্রোগ্রামের প্রথম দিনটা ছিল ওরিয়েন্টেশন। সেখানে বাকিদিনগুলির প্ল্যানিং নিয়ে আলোচনা হল। লাঞ্চ সেরে আমরা গেলাম টোকিও মিউনিসিপ্যালিটির অফিস মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট এ। এটি একসময় জাপানের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং ছিল। সেখানে গাইডেড ট্যুর শেষে ৪৫ তলার অবজারভেটরিতে উঠে পুরো টোকিও শহরটাকে পাখির চোখে দেখলাম! এত ঘিঞ্জি শহর এত ট্র্যাফিক কিন্তু এত পরিষ্কার পরিছন্ন যা বর্ণনার অতীত। প্রথম দিনটা এইভাবে হালকা চালেই কেটে গেলো।

আগামীকাল থেকে শুরু হবে আমাদের স্কুল ভিজিট.. 

 

ছবি পরিচিতি - হাতে কলমে শিক্ষা 

দ্বিতীয় পর্ব:

জাপানের শিক্ষাব্যবস্থায় স্কুলগুলো চার ভাগে বিভক্ত - পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত কিন্ডারগার্টেন, এরপর ছয় বছর ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারপর তিন বছর ধরে জুনিয়র হাই স্কুল এবং সবশেষে তিন বছরের সিনিয়র হাই স্কুল।

আমাদের তিন দিনের জাপান শিক্ষা সফর ছিল তিনটি ভিন্নধরনের স্কুলে। প্রথমদিন আমাদের গন্তব্য কোশিগাতাকিয়া সিনিয়র হাই স্কুল, যা বিজ্ঞান শিক্ষার উৎকর্ষের জন্য জাপান সরকারের কাছ থেকে 'সুপার সায়েন্স স্কুল' পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

সকাল সাড়ে সাতটা বাজতেই সিহোকো (ACCU এর কোঅর্ডিনেটর) বাস নিয়ে হাজির। আমরাও হোটেলের সুস্বাদু কন্টিনেন্টাল খাবার দিয়ে সকালের ব্রেকফাস্ট সেরে তৈরি। জাপানের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে অনেক গল্প শুনেছি। আর আজ সেই শিক্ষাব্যবস্থা নিজের চোখে দেখার সুযোগ! উত্তেজনাটা যেন বাঁধ মানছে না।

স্কুলের দরজায় পা রাখতেই এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা! আমাদের সকলকে নিজের জুতো খুলে স্কুলের বিশেষ চটি পরে নিতে হলো। জাপানের স্কুলগুলোতে এটা একটা অলিখিত নিয়ম। ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, এমনকি বাইরে থেকে আসা অতিথিদেরও এই নিয়ম মেনে চলতে হয়।

দিনটা শুরু হলো পরিচয় পর্ব দিয়ে। আমাদের সঙ্গে থাকা দুই দোভাষী ম্যাডামও ছিলেন সেখানে। আমাদের বারোজন শিক্ষককে দুটি দলে ভাগ করা হলো। যেন স্কুলের প্রতিটি কোণ খুঁটিয়ে দেখা যায়, কোনো কিছুই যেন বাদ না পরে।

আমাদের দলটিকে প্রথমেই নিয়ে যাওয়া হলো পদার্থবিদ্যার ল্যাবে। সেখানে তখন দিওয়ালি লন্ঠন তৈরির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। আমিও একটু হাত লাগালাম। ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে আরকি!! তারপর গেলাম ইংরেজি সাহিত্যের ক্লাসে। সেখান থেকে আমরা গেলাম গ্রন্থাগারের দিকে। জানা গেল, জাপান সরকার প্রতি বছর স্কুলগুলোকে বই কেনার জন্য ৭০ লক্ষ জাপানিজ ইয়েন বরাদ্দ করে। ছেলেমেয়েদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহও যথেষ্ট। আমরাও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবকিছু দেখে-শুনে নিলাম।

দুপুরের খাবার ছিল একেবারে খাঁটি জাপানি স্বাদ আর গন্ধের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। এরপর স্কুলের কালচারাল ক্লাবের কচিকাঁচারা তাদের নিপুণ হাতে হার্পের সুরের এক মায়াবী জাল বুনলো। কুড়ি-পঁচিশ জনের একযোগে বাজানো সেই সুরের মূর্ছনায় যেন অন্য এক জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। এরপর ছোটো ছোটো বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণার নানা চমকপ্রদ দিক তুলে ধরল পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা আর গবেষণার গভীরতা দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ হয়েছিলাম। সবচেয়ে বেশী ভালো লাগলো তাদের গবেষণাকে এত সুন্দর করে ডকুমেন্টেন্ড করা দেখে।

দিনের শেষভাগে, আমরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে জাপানি শিক্ষকদের সাথে তাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করলাম, আর তারাও আমাদের দেশের শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিলো। এই পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের মধ্যে দিয়েই শেষ হল আমাদের সেই স্মরণীয় স্কুল পরিদর্শন। 

ছবি পরিচিত - জাপানের শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা 

আমাদের জাপানি স্কুল পরিদর্শনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চমক বাকি ছিল। যখন আমরা স্কুল চত্বর থেকে বেরিয়ে আসছিলাম, তখন একটি অসাধারণ দৃশ্য আমাদের অভিভূত করে দিল। দেখলাম, শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসরুম, ক্যান্টিন এবং করিডোর নিজেরাই পরিষ্কার করছে। এই দৃশ্য জাপানি স্কুলের একটি অনন্য এবং প্রশংসনীয় সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষার স্থান পরিষ্কার করে তবেই দিনের শেষে বাড়ির পথে রওনা হয়। এই রীতিটি তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ এবং পরিচ্ছন্নতার প্রতি গভীর সম্মান জাগিয়ে তোলে। এটি কেবল একটি স্কুলের নিয়ম নয়, বরং একটি জীবনদর্শন, যা বিশ্বজুড়ে অনুকরণীয়। 

ছবি পরিচিতি - জাপানের ক্লাসঘর

তৃতীয় পর্ব

আজ আমাদের জাপান সফরের তৃতীয় দিন। আজকের দিনটি আমার মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আজ আমাদের গন্তব্য ছিল ইউরিকাগো কিন্ডারগার্টেন, যা সাতোয়ামাতে অবস্থিত। সাতোয়ামা প্রকৃতির যেন এক অপূর্ব সৃষ্টি – একদিকে অরণ্যের শান্ত স্নিগ্ধতা, অন্যদিকে গ্রামের সরল জীবনযাত্রা, এই দুইয়ের মাঝে এক বিশাল প্রান্তর যাকে জাপানি ভাষায় সাতোয়ামা বলা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পথে, হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রং-বেরঙের পাতায় সজ্জিত গাছের সারি মুগ্ধ করলো।

কিন্ডারগার্টেনে পৌঁছতেই সেখানকার শ্রদ্ধেয় প্রিন্সিপাল এবং শিক্ষিকাগণ গেটেই অভ্যর্থনা জানালেন এবং আমাদের ভিতরে নিয়ে গেলেন। প্রবেশদ্বারে দৃষ্টি পড়লো একটি বোর্ডে, যেখানে লেখা ছিল 'স্বাগত' – এই আন্তরিক অভ্যর্থনা মন ছুঁয়ে গেল। পরিচয় এবং উপহার পর্বের সমাপ্তির পর, প্রিন্সিপাল আমাদের কিন্ডারগার্টেনের হলরুমে স্বাগত জানালেন। আমাদের সাথে ছিলেন সুইডেনের এক শিক্ষিকা, যিনি জাপানিজ শিক্ষা পদ্ধতির উপর গবেষণা করছেন।

আজকের দিনের শুভ সূচনা হলো যোগা চর্চার মাধ্যমে। এই কিন্ডারগার্টেনের সবচেয়ে বড় শিক্ষার্থী, পাঁচ বছর বয়সের শিশুরা, আমাদের সাথে একত্রিত হলো যোগা শিখতে। এক ভারতীয় শিক্ষক হিসেবে জাপানি শিশুদের যোগা শেখানোর এই অভিজ্ঞতা এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। যোগা, যা প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যের এক অমূল্য নিদর্শন, জাপানের মতো একটি সংস্কৃতিতে, যেখানে নিয়মানুবর্তিতা এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের উপর জোর দেওয়া হয়, যোগার অন্তর্ভুক্তি শিশুদের মানসিক প্রশান্তি, একাগ্রতা এবং শারীরিক নমনীয়তা বিকাশে সহায়ক হতে পারে। আমাদের শেখানো প্রতিটি আসন, প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, যেন দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মাঝে একটি সেতুবন্ধন রচনা করলো। এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কচি মনে যোগার বীজ রোপণ করতে পারা এক গভীর তৃপ্তির অনুভূতি এনে দিল, যা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিল।

যোগা শেষে কিন্ডারগার্টেনের ভিতরে প্রবেশ করা মাত্রই আমাদের দৃষ্টি গেলো সুবিশাল খেলার মাঠে, যেখানে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা আসন্ন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য ড্রিল প্র্যাকটিস করছিল। তাদের সম্মিলিত পদচারণা আর রঙিন পোশাক এক আনন্দময় দৃশ্যের সৃষ্টি করছিল।

বামহাতে একতলা বাড়ীটির বারান্দার পাশে সারিবদ্ধ চারটি শ্রেণীকক্ষ, যেখানে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা হেসেখেলে তাদের শৈশব অতিবাহিত করছে। তার বাম দিকে শিক্ষকদের জন্য স্টাফরুম। প্রিন্সিপাল আন্তরিকভাবে প্রতিটি ঘর আমাদের ঘুরিয়ে দেখালেন।

আশ্চর্য্যজনকভাবে, কোনো শ্রেণীকক্ষেই বাচ্চাদের গতানুগতিক পড়াশোনা করতে দেখা গেল না। একটি ঘরে তারা তুলো থেকে সুতো তৈরি করার কৌশল শিখছে, তো অন্যটিতে নিজেদের হাতে কাপড় রাঙানোর আনন্দে মশগুল। "জনি জনি ইয়েস পাপা" এর মত কোনো জাপানিজ ছড়া কিংবা বর্ণমালা বা সংখ্যা শেখানোর চিরাচরিত পদ্ধতি এখানে অনুপস্থিত। এই কিন্ডারগার্টেনের মূলমন্ত্র হলো শিশুদের প্রকৃতির কোলে ছেড়ে দেওয়া, যেখানে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা আর অনুসন্ধিৎসু মন থেকেই জ্ঞান অর্জন করবে—প্রকৃত অর্থে, হাতে-কলমে শেখা, অর্থাৎ 'Experiential Learning'

ছবি পরিচিতি - ফেলে দেওয়া জিনিস ব্যবহার করে নানা নান্দনিক সামগ্রী ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া হয় জাপানে

এরপর প্রিন্সিপাল আমাদের এমন এক জগতে নিয়ে গেলেন যা একইসাথে মুগ্ধ করার মতো এবং বিস্ময় জাগানো। শ্রেণীকক্ষের সামনের খেলার মাঠের সীমানা পেরোতেই শুরু হলো এক সবুজ অরণ্য। সেখানে ছোট ছোট শিশুরা গাছের ডালে ফ্লাইং কাঠবিড়ালির জন্য নিজেদের হাতে বাসা তৈরি করে রেখেছে। এমনকি একটি বাসার চারপাশে লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, যার মাধ্যমে শিশুরা কাঠবিড়ালির জীবনচক্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হঠাৎ প্রিন্সিপাল স্যার একটি ছোট্ট, অপরিচিত পোকা খুঁজে পেলেন এবং তা তুলে দিলেন বাচ্চাদের হাতে। সেই পোকাটিকে ঘিরে তাদের মধ্যে যে বিপুল উৎসাহ দেখা গেল, তা সত্যিই দেখার মতো। মনে হচ্ছিল যেন তারা রুশোর সেই 'এমিলি', যারা প্রকৃতির অবাধ পরিবেশে বেড়ে উঠছে, প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান যাদের কাছে জ্ঞানের অফুরন্ত ভান্ডার।

এরপর আমাদের গন্তব্য ছিল ধান চাষের জমি। সেখানে আমরা দেখলাম, ছোট্ট পরিসরে ধান গাছের চারা রোপণ করা থেকে শুরু করে পাকা ধান তোলা, ঝাড়াই-মাড়াই করা এবং সবশেষে জাপানের ঐতিহ্যবাহী 'রাইস বল সেরেমনি' পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই ছোট ছোট বাচ্চাদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হচ্ছে। তাদের কচি হাতের স্পর্শে যেন সোনার ফসল ফলছে। আমরাও সেই আনন্দযজ্ঞে শামিল হলাম এবং বাচ্চাদের সাথে কিছুক্ষণ ধান ঝাড়াইয়ের কাজে হাত লাগালাম। তাদের উৎসাহ আর কর্মচাঞ্চল্য দেখার মত ছিল।

আজকে দিনের দ্বিতীয় ভাগে আমাদের ভারতীয় দূতাবাসে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। তাই মধ্যাহ্নভোজের পরেই আজকে আমাদের বিদায়ের পালা।

ছবি পরিচিতি - জাপানের ভারতীয় দূতাবাসে

কিন্ডারগার্টেনের প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে একটি অপ্রত্যাশিত ও হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ালাম। দেখলাম, একজন শিক্ষিকা পরম মমতায় বছর দুয়েকের একটি ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে তার শ্রেণীকক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কারণ সেই ছোট্ট শিশুটি কিছুক্ষণ আগে সাইকেল চালিয়ে ফিরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এই দৃশ্য মনে যে গভীর সহানুভূতি ও আনন্দের সঞ্চার করলো, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সত্যিকারের 'বাড়ি' করে তোলে, যেখানে প্রতিটি শিশুর প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আজকের এই বিশেষ দিনটি জাপান সফরের অন্যতম শ্রেষ্ঠদিন হিসেবে স্মৃতির পাতায় তুলে রাখলাম। 

ছবি পরিচিতি - স্কুলের গ্রন্থাগার

পর্ব ৪

সকালবেলা কিন্ডারগার্টেনের সেই অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার পর এক অপার বিস্ময় আর আনন্দ নিয়ে দিনের দ্বিতীয় অর্ধে আমরা চলে এলাম ACCU-এর অফিসে। সেখানে পোশাক পরিবর্তন করে, নতুনভাবে সেজে নিলাম আমরা – সমস্ত মহিলারা ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় শাড়ি এবং পুরুষরা ফরমাল পোশাকে তৈরি হয়ে গেলাম টোকিওতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান এমবাসিতে যাওয়ার জন্য। এই মুহূর্তটা যেন এক স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল, যেখানে আমরা নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছি বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে। সেখানে আমাদের সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎকার ছিল ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সিবি জর্জের সাথে।

উনি যখন একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে একটি দেশে অন্য একটি দেশের দূতাবাসের কী কী কাজ, সে সম্পর্কে বলছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল যেন আমার সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। ভারতবর্ষের সাথে জাপানের দীর্ঘকালীন সুসম্পর্কের কথা যখন তিনি সগৌরবে তুলে ধরলেন, তখন একজন ভারতীয় হিসেবে গর্ব অনুভব করছিলাম। আর যখন শুনলাম যে এই মুহূর্তে ভারতবর্ষের সাথে জাপানের ৬৪৫টি প্রজেক্টে কাজ চলছে, তখন দেশের অগ্রগতি আর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গভীরতা অনুভব করে মনটা আনন্দে ভরে গেল।

এর মধ্যেই কিছু সান্ধ্যকালীন স্ন্যাক্স এবং কফি এসে গেল, যা এই গম্ভীর অথচ আনন্দময় পরিবেশে এক উষ্ণতার ছোঁয়া এনে দিল। কফি খেতে খেতে উনি যখন আমাদের থেকে ভারতবর্ষের শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আগ্রহ ভরে জেনে নিচ্ছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল যেন তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রদূত নন, আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একজন শুভাকাঙ্ক্ষীও বটে। ভারতবর্ষের সাম্প্রতিককালের অতিরিক্তমাত্রায় ব্রেন ড্রেন এর কারণ সম্পর্কেও উনি আমাদের থেকে মতামত শুনতে চাইছিলেন। যেহেতু আমরা শিক্ষাব্যবস্থার একদম রুটলেভেলের সাথে যুক্ত তাই উনি আমাদের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছিলেন।

উনি দীর্ঘকাল ভারতবর্ষের বাইরে রয়েছেন জানালেন, আর তাঁর কথায় দেশের প্রতি এক গভীর টান অনুভব করলাম। জাপানের আগে উনি সুইজারল্যান্ডে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন জানালেন, তাঁর অভিজ্ঞতা আর নিষ্ঠা আমাদের মুগ্ধ করল। সৌভাগ্যক্রমে সেখানে এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের যিনি কর্মকর্তা তার সাথেও আলাপ হল, এবং পরিচিতির মাধ্যমে যখন জানলাম তিনি একজন বাঙালি, তখন যেন বিদেশে এক টুকরো ঘরের উষ্ণতা অনুভব করলাম। এই অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ মনকে আরও স্নিগ্ধ করে তুলল।

একজন ভারতীয় শিক্ষিকা হিসেবে জাপানে এসে ভারতীয় দূতাবাসের এই অভিজ্ঞতা, এই সম্মান, এই আন্তরিকতা – এ যেন জীবনের এক অমূল্য প্রাপ্তি। এই স্মৃতিটুকু আমার হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে। 

ছবি পরিচিতি - স্কুলের ক্যান্টিন রুম

পর্ব ৫

আজকে আমাদের স্কুল ভিজিটের শেষ দিন। আজ আমরা যাব কুকি এলিমেন্টারি স্কুলে। এখানে ৬-১২ বছরের বাচ্চাদের পড়ানো হয়। এই স্কুল ভিজিট আমাদের চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে কারণ এখানে আমাদের অভিনব উপায়ে অভ্যর্থনা করা হয়েছিল। প্রথমেই আমাদের হলে নিয়ে যাওয়া হয়। হলে পৌঁছনোর রাস্তায় বাচ্চারা নিজেদের হাতে তৈরি ফুলের তোরণ নিয়ে দাঁড়িয়েছিল যার নিচ দিয়ে আমরা প্রবেশ করলাম। তারপর আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে শোনান হলো।

অভ্যর্থনা পর্ব সারা হলে আমরা স্কুলের লাইব্রেরিতে চলে এলাম সেখানে আমাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পারস্পরিক পরিচয়পর্ব ও উপহার আদানপ্রদান শেষ হলে আমার বাচ্চাদের লেখা চিঠি আমি প্রিন্সিপালের হাতে তুলে দিলাম। তারপর আমাদের স্কুল ভিজিট শুরু হলো। একইভাবে আমরা সারা স্কুল বাড়ী ঘুরে দেখলাম। এবং অনেকগুলো ক্লাসে টিচারদের পড়ানোর সাক্ষী হয়ে রইলাম। এখানে মূলত গভর্নমেন্টের তৈরি বেনেসে নামক একটা অ্যাপ টিচার এবং স্টুডেন্টরা ব্যবহার করে। প্রতি স্টুডেন্টের হাতে তাদের নিজস্ব ট্যাব রয়েছে। সেখানে তারা প্রজেক্ট ওয়ার্ক জমা দেওয়া থেকে হোমওয়ার্ক করা এবং ক্লাসের ফিডব্যাক পর্যন্ত দিতে পারে। প্রতিটি ক্লাসরুম ডিজিটাল। এবং টিচাররা বেশিরভাগ হাতে কলমে শিক্ষায় বিশ্বাসী। মিড ডে মিল শুরু হতেই দেখা গেলো বা বাচ্ছাদের মধ্যে দুইজন প্রতিনিধি নিজেরাই খাবার নিয়ে এসে বন্ধুদের পরিবেশন করছে এবং নিজেরা খাওয়ার পর বাসন ধুয়ে রাখছে। টয়লেটও নিজেরাই পরিষ্কার করছে।

আমাদের মধ্যাহ্ন ভোজ সম্পন্ন হলো লাইব্রেরিতে। আমাদের তিন বাঙালির খাবার নিয়ে কোনও সমস্যা না হলেও অন্য টিচারদের অবস্থা শোচনীয়। কারণ তারা সবাই নিরামিষাশী। কিন্তু জাপানিজ খাবারে সবেতেই প্রায় আমিষ রয়েছে। তারা বাড়ী থেকে নিয়ে যাওয়া শুকনো খাবার দিয়ে যেভাবে হোক ক্ষুধা নিবৃত্তি করে চলেছে। 

ছবি পরিচিতি - বাচ্চারাই মিড ডে মিল পরিবেশন করছে

মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির পর ছিল আমাদের তরফ থেকে কালচারাল এক্টিভিটিস। একদল গেলেন বেদিক ম্যাথ শেখাতে আর আমরা একদল গেলাম অডিটোরিয়ামে ডান্স শেখাতে। এই ডান্স পারফরম্যান্স সুন্দর করার জন্য আমরা জাপান আসার আগে প্রায় প্রতিদিন অনলাইনে নাচ প্র্যাকটিস করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের সব থেকে বেশি উৎসাহ যুগিয়েছেন রেণুকা ম্যাম। আমরা পাঞ্জাবি লহরি প্র্যাকটিস করেছিলাম। টোকিও পৌঁছেও আমরা নাচ প্র্যাকটিস করেছি। আমাদের হোটেলের লন ছিলনা তাই আমরা পাশের একটা গ্যারাজে নাচ প্র্যাকটিস করেছি এতটাই আমাদের অধ্যবসায় ছিল।

যাইহোক জাপানিজ বাচ্ছাদের আমাদের নাচ খুব পছন্দ হলো এবং তারা শিখতে উৎসাহী ছিল। সব শেষে CEE এর পক্ষ থেকে news চ্যানেলের জন্য ইন্টারভিউ দিয়ে আজকের এই দিনটি আমাদের শেষ হলো। 

 

ছবি পরিচিতি - স্কুলে সঙ্গীত শিক্ষার আসর

 

পর্ব ৬

আজকে আমাদের জাপান যাত্রার শেষদিন। আজ ACCU এর অফিসে জাপানিজ টিচারদের সাথে আমাদের গ্রুপ ডিসকাশন ছিল। দুঘণ্টার এই গ্রুপ ডিসকাশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ এখানেই আমরা আমাদের নিজেদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ওনাদের জানাতে পারি এবং ওনাদের থেকেও জানতে পারি। এবং পরবর্তীকালে কিভাবে আমরা কোলাবরেট করতে পারি সে বিষয়েও আলোচনা হয়। আলোচনার শেষে প্রতিটি গ্রুপ রিপোর্ট পেশ করে। 

ছবি পরিচিতি - ভারত থেকে এই শিক্ষামূলক ভ্রমণে যাঁরা গিয়েছিলেন

আজকের মধ্যাহ্ন ভোজনটি ছিল অভিনব কারণ আমরা জাপানিজ টিচারদের সাথে আজকে মধ্যাহ্ন ভোজন সারি।

এরপর আমাদের প্রত্যেকের সাথে একজন করে জাপানিজ টিচার দিয়ে আমাদের লোকাল সাইটসিইং এর জন্য পাঠানো হয়ে টোকিও শহরে অবস্থিত সেনকোজি টেম্পেলে। এই অভিজ্ঞতাটা ছিল খুবই স্মরণীয়। এরপর তাদের সাহায্যে আমরা কাছাকাছি শপিং মল থেকে কিছু স্যুভেনির কিনি। শেষে বিদায় জানানোর পালা। পরদিন ভোর বেলা আমরা উদিত সূর্যের দেশ থেকে পারি দেব নিজেদের দেশে। 

 

পর্ব ৭ 

জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে যে সব অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলাম, সে সম্পর্কে কয়েকটি কথা এবার সূত্রাকারে বলি। 

১) স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছাত্রছাত্রীদের পাশে শিক্ষকরা শুধু পাঠদানের দায়িত্ব নয়, এক ধরনের নীরব প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্কুলে সন্ধ্যা পর্যন্ত থেকে অতিরিক্ত ক্লাস করলেন। অন্যদিকে, ক্লান্তি সত্ত্বেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজেরাই সাইকেল বা বাসে করে স্কুলে পৌঁছে গেল—স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক অদম্য ইচ্ছা যেন তাদের প্রতিটি যাত্রায় প্রতিফলিত হচ্ছে। 

২) প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা নেওয়া অতিথি বক্তৃতায় অংশগ্রহণ করে, যেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়—নেপালে স্ট্রবেরি চাষ থেকে শুরু করে কেনিয়ার ফ্যাশন ব্যবসা, খাদ্যকোর্ট ব্যবস্থাপনা এবং ডেনমার্কের সাংস্কৃতিক গবেষণা পর্যন্ত নানা বৈচিত্র্যময় বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

৩) শিক্ষাব্যবস্থা ৬-৩-৩-৪ কাঠামোতে সংগঠিত। অর্থাৎ, প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ৬ বছর এবং জুনিয়র হাই স্কুলের ৩ বছর—মোট ৯ বছর শিক্ষা সকল শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক, যা ছয় বছর বয়স থেকে শুরু হয়। জাপানের জুনিয়র হাই স্কুলে ছয়টি বাধ্যতামূলক বিষয় পড়ানো হয়—জাপানি ভাষা, সমাজবিজ্ঞান, গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি এবং শারীরিক শিক্ষা।

৪) ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা চলে, যা ঐচ্ছিক। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় বা জুনিয়র কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নেয়। সিনিয়র হাই স্কুলে দুটি ধারা থাকে—সাধারণ ধারা এবং বিজ্ঞান ধারা। সাধারণ ধারায় শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য, শিল্প স্থাপত্য, অর্থনীতি, কৃষি, বিদেশি ভাষা (যেমন ইংরেজি, ডাচ, ফরাসি), নার্সিং ইত্যাদি বিষয় বেছে নিতে পারে। বিজ্ঞান ধারায় শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান পড়তে হয়। 

৫) সাধারণত স্কুলের দৈনিক সময়সীমা ছয় ঘণ্টা, তবে শনিবার তা কমে চার ঘণ্টা হয়। তবে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে থাকা শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত তিন থেকে চার ঘণ্টা স্কুলে অবস্থান করে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। এই সময়ে শিক্ষকরা তাদের সহায়তা ও নির্দেশনা দেওয়ার জন্য উপস্থিত থাকেন। 

৬) উচ্চশিক্ষা সাধারণত চার বছরব্যাপী হয় এবং প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পৌঁছায়। কঠোর কাঠামোর মধ্যেও জাপানের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাপানের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি, এবং জুনিয়র ও সিনিয়র হাই স্কুলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুপাত প্রায় ৬০:৪০। 

৭) প্রতি স্কুলে একজন নেটিভ ইংরেজি-ভাষী শিক্ষক (Native English-speaking teacher) নিয়োজিত থাকেন, যিনি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ক্লাস নেন। উদাহরণস্বরূপ, এলিমেন্টারি স্কুলে আমাদের পরিচয় হয়েছিল ফিলিপিন্সের একজন শিক্ষকের সঙ্গে। যিনি ইংরেজিকে মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন বা স্বাভাবিকভাবে ইংরেজিভাষী পরিবেশ থেকে আসেন। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের সঠিক উচ্চারণ, স্বাভাবিক কথোপকথন দক্ষতা এবং বাস্তব জীবনের ইংরেজি ব্যবহারের সঙ্গে পরিচিত করান। 

ছবি পরিচিতি - জাপানের ক্লাসঘর দেখলেই বোঝা যায় কেন সে দেশটা এত উন্নত। 

---

লেখকের পরিচিতি ও শিক্ষা বিষয়ক কর্মকাণ্ড 


তনুশ্রী গোস্বামী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক। তনুশ্রী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশুদ্ধ গণিতে স্নাতকোত্তর। STEM শিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও উদ্ভাবনী শিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে জটিল বিষয়কে সহজ, আকর্ষণীয় ও বোধগম্য করে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি বিভিন্ন স্কুলে STEM workshop করান। তিনি CERN High School Teacher (HST) Program-এ অংশগ্রহণ করেছেন, এবং জাপান শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর শিক্ষাদর্শনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

এছাড়াও তনুশ্রী পরিবেশ ও সাস্টেইনেবিলিটি (Sustainability) বিষয়ক বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা তাঁর শিক্ষাক্ষেত্রের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত ও বাস্তবমুখী করেছে।

শিক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতি ও ভ্রমণ তাঁর বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র; বিশেষ করে ট্রেকিং-এর প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে। তাঁর লেখার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থী ও সহশিক্ষকদের মধ্যে কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং অনুসন্ধিৎসা জাগ্রত করতে আগ্রহী।